সমালোচনা করুন, তবে এক-দুটি ইনিংস দেখে নয়: তাওহিদ হৃদয়

· Prothom Alo

সিলেটে ২৪২ রানের ইনিংস খেলার পর সংবাদ সম্মেলনে আসার কথা ছিল তাওহিদ হৃদয়ের। কিন্তু এত বড় ইনিংস খেলার ধকল সামলাতে না পেরে গতকাল আর আসেননি। আজ এলেন। তাঁকে নিয়ে কৌতূহলও ছিল অনেক। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রশ্নটা গেল অন্যদিকে। মিরপুর টেস্টের পর তাঁকে নিয়ে হওয়া সমালোচনা প্রসঙ্গে।

Visit saltysenoritaaz.org for more information.

সেই টেস্টের দুই ইনিংসেই অসময়ে শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন হৃদয়। তাঁর টেস্ট খেলার ধৈর্য আছে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছিল। সেখান থেকে পরের ম্যাচেই যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সেটি অবিশ্বাস্য। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। ছাড়িয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিমকে। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিকও তিনি।

 তবে ২৪২ রানের সেই ইনিংসের কৃতিত্ব নিয়ে কথা বলার চেয়ে হৃদয় আজ যেন বেশি গুরুত্ব দিলেন সমালোচনা নিয়ে নিজের একটা অনুরোধে, ‘আমি আগেও বলেছি, সব সময় বলব আপনি নিয়মিত পারফর্ম করতে পারবেন না, সেটা যেকোনো পেশাতেই হোক। বিশ্বের সব দলের ক্ষেত্রেই এটা হয়। তাই এক-দুই দিনের পারফরম্যান্স দেখে কাউকে বিচার করাটা ঠিক নয়।’

তাওহিদ হৃদয়


সমালোচনা নিয়ে আপত্তি নেই হৃদয়ের। বরং ভুল হলে সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক মনে করেন তিনি। তবে সেটিরও একটা সীমা থাকা উচিত বলে মনে করেন এই ব্যাটসম্যান। পরে বলেছেন, ‘আপনারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন। আমরা ভুল করলে সমালোচনা করার অধিকার আপনাদের আছে। তবে সেটা এক-দুটি ইনিংসের ভিত্তিতে নয়। একই ভুল যদি ধারাবাহিকভাবে হতে থাকে, তখন সমালোচনা করা যৌক্তিক। তারপরও বুঝতে হবে, খেলার পরিস্থিতি কী দাবি করছে।’    

মিরপুরের ব্যর্থতার পর সিলেটে হৃদয়ের এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু ব্যাট হাতে জবাব দেওয়ার গল্প নয়। সমালোচনার ধরন নিয়েও তাঁর একটা বার্তা আছে।

নির্বিষ বোলিংয়ে বাংলাদেশের অসহায় এক দিন

২৪২ রানের ইনিংসে আরও একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের নামের পাশে এত দিন যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড ছিল, সেটি এখন হৃদয়ের। আর রেকর্ডটি ভাঙার পর ড্রেসিংরুমে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানিয়েছেন মুশফিক নিজেই।

তাওহিদ হৃদয়


তবে ব্যাটিংয়ের সময় এসব কিছু মাথায় ছিল না হৃদয়ের। নিজের দিনে দলের জন্য যতটা সম্ভব অবদান রাখাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। বলেছেন, ‘এটা আমার রিজিকে ছিল। আমি আসলে চিন্তা করিনি যে আমি কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি বা কী হবে; আমার ওই পরিস্থিতিতে যেটা মনে হয়েছে, দলকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে যতটুকু লড়াই করা যায়, চেষ্টা করেছি। আমি সেট ছিলাম, আমার দিনটা ভালো যাচ্ছিল, ব্যাটে বল লাগছিল। চেষ্টা করেছি যে দলের জন্য যতটুকু অবদান রাখা যায়।’

সাদা বলের দুই সংস্করণ মিলিয়ে হৃদয়ের সেঞ্চুরি মাত্র একটি। টেস্টে নিজের তৃতীয় ম্যাচেই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। সেটি আবার ডাবল সেঞ্চুরি। এমন ইনিংসকে অনেকেই তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বলে বিবেচনা করবেন। কিন্তু হৃদয়ের ভাবনাটা একটু আলাদা।

রেকর্ড গড়া ইনিংস নিয়ে হৃদয় বললেন, ‘এটা আমার স্বপ্ন ছিল’

ক্যারিয়ারের বিশেষ ইনিংসের কথা বলতে গিয়ে ফিরে গেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। সেখানে টানা তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। হৃদয়ের কাছে এখনো সেটিই বিশেষ। বলেছেন, ‘আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে আমি টানা তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলাম। আমার কাছে এখনো মনে হয়, ওটাই বিশেষ কিছু। যদিও সেটা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে, তবে টানা তিনটি সেঞ্চুরি করা আমার কাছে এখনো অনেক বিশেষ কিছু মনে হয়।’

হৃদয়ের কাছেই রহস্যটা জানতে বললেন সিমন্স

Read full story at source