মেট্রোরেলের পিলারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের ছবি আঁকা হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

· Prothom Alo

রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এসব পিলারে কোনো রাজনীতিকরণ না করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের ছবি আঁকা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

আজ শুক্রবার সকালে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে ঢাকা উত্তর সিটির ‘জুলাই গ্রাফিতি রিমেক’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক এ ঘোষণা দেন।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান সৃষ্টির পেছনে খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বেশি অবদান। সেই কারণে সিদ্ধান্ত হয়েছে, খালেদা জিয়ার ছবি মেট্রোরেলের পিলারের গ্রাফিতিতে আঁকা হবে। আরও যাঁরা জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবি গ্রাফিতিতে আঁকা হবে। কোনো রাজনীতিকরণ করা হবে না। যাঁরাই দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছেন, প্রতিটি পিলারে পর্যায়ক্রমে তাঁদের ছবি আঁকা হবে।

প্রশাসক বলেন, দুই সপ্তাহ আগে কাজীপাড়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে গিয়ে মেট্রোরেলের পিলারে রাজনৈতিক দল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টারের পোস্টার দেখা যায়। তখন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টার অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। এখন ওই সব পিলারেই গ্রাফিতি আঁকা হবে বলেও জানান তিনি।

মিরপুর-১০ নম্বর ও হোপ মার্কেটের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযানে সহযোগিতা করায় মিরপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মিরপুর ও কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। দোকানিদের নিজেদের দোকানের সামনের ময়লা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। পাশাপাশি দোকানের সামনে অন্য কেউ যাতে দোকান বসাতে না পারেন, সে বিষয়েও তাঁদের দায়িত্ব নিতে হবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ইতিমধ্যে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের সদস্যরা সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত নজরদারি করছেন। মিরপুরবাসীর দীর্ঘ ২০ বছরের দাবি পূরণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকার সব এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। যেসব এলাকায় সমস্যা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। দখলমুক্ত ফুটপাত সবুজায়নের জন্য গাছ লাগানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফুটপাত পুনর্দখলের চেষ্টা হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ‘আমি ওই দিন বলেছিলাম, যদি কেউ ফুটপাত নিয়ে টালবাহানা করে। আবার ফুটপাত দখল করার চেষ্টা করে। আমার লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে।’ নগরবাসী যাতে নির্বিঘ্নে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও নেই অটোরিকশার পক্ষে রাস্তায় গিয়ে আন্দোলন করবে। সেদিন কারা ছিল? তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কিন্তু ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।’

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক অটোরিকশাচালকদের দাবি সরকারকে মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টি অটোরিকশা আছে। জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, নির্বাচনের আগে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এখন আর সেই সুযোগ পাওয়া যাবে না। সবাইকে গণতন্ত্রের পথে ও জনগণের কাতারে এসে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। হুমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা, মশা নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, সড়ক উন্নয়ন ও সড়কবাতি সচল রাখার কাজ করবে ডিএনসিসি। এসব কাজের মধ্য দিয়েই ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানান তিনি।

পরে ১০ নম্বর গোলচত্বরে মেট্রোরেলের ২৪৮ নম্বর পিলারে রং করার মাধ্যমে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অঞ্চল-৪–এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Read full story at source