ধার করা জুতায় গোল্ডেন বুট

· Prothom Alo

কথায় আছে, রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্য। কিন্তু কিছু কিছু রেকর্ড আছে, যা ভাঙা দূরে থাক, সেগুলো ছোঁয়ার কথা ভাবতেও তারকাদের ঘাম ঝড়ে যায়। এমন এক রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছিল ১৯৫৮ বিশ্বকাপ, যেখানে ফ্রান্সের স্ট্রাইকার জাস্ট ফন্টেইন এক আসরে করেছিলেন ১৩টি গোল! বিশ্বকাপের মঞ্চে যেখানে ১টি গোলের মূল্যও অনেক, সেখানে এক আসরেই ১৩ গোল করে পরিণত হয়েছিলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতায়। আর এই বিশ্বজয় করেছিলেন ধার করা এক জোড়া জুতা পরে!

জাস্ট ফন্টেইন বিশ্বকাপে হাজির হয়েছিলেন দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে। স্তাদ দে রাঁনসের হয়ে ২৬ ম্যাচে করেছিলেন ৩৪ গোল, দলকে জিতিয়েছিলেন দুটি শিরোপা। বিশ্বকাপের মূল দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন এই ফর্ম দিয়ে। কিন্তু যাত্রা করার ঠিক আগমুহূর্তে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সময় ছিঁড়ে যায় জাস্ট ফন্টেইনের জুতা। তখন তো আর খেলোয়াড়দের পেছনে এত টাকার ঝনঝনানি ছিল না, নিজেদের বুট ঠিকঠাক করতে হতো নিজেদেরই। নিরুপায় হয়ে সতীর্থ স্টিফেন ব্রুইর কাছ থেকে ধার নেন এক জোড়া পুরোনো বুট। সেই ধার করা জুতা পায়ে দিয়ে শুরু হলো গোলের উৎসব। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু, এরপর যুগোশ্লাভিয়ার বিপক্ষে ২ গোল আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১। গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিলেন ৬ গোল নিয়ে।

Visit newsbetting.bond for more information.

চুরি হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপ

নকআউট পর্বে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ২ গোল, আর সেমি ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১। কিন্তু সেখানেই কাটা পড়েছিল ভাগ্যের শিকে। কারণ, প্রতিপক্ষে ছিলেন ফুটবলের রাজা পেলে। সেদিন হ্যাটট্রিক করে ফ্রান্সের যাত্রা থামিয়ে দিয়েছিলেন পেলে। পেলের ‘পেলে’ হয়ে ওঠা শুরু হয়েছিল সেই ম্যাচ দিয়েই। ফাইনালে যেতে না পারার দুঃখ ফন্টেইন মিটিয়েছিলেন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। শক্তিশালী পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৬-৩ গোলের বিশাল জয় পেল ফ্রান্স। আর সেখানে তিনি একাই করলেন চারটি গোল! ৬ ম্যাচে ১৩ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের মৌসুম শেষ করলেন তিনি। প্রথমবারের মতো তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল ফ্রান্স। যে ফলাফল পেতে ফ্রান্সকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও ২৮ বছর!

এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখনো ভাঙতে পারেনি কেউ।

মজার ব্যাপার হলো, সেই বিশ্বকাপের মূল একাদশে ফন্টেইনের খেলার কথাই ছিল না। ফ্রান্সে তাঁর অভিষেক হয়েছিল হ্যাটট্রিক দিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে আসার আগের দুই বছরে তাঁর ছিল না কোনো গোল। দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও কোচ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রেমন্ড কোপার সামনে খেলবেন স্ট্রাইকার রেনে ব্লিয়ার্ড। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগে চোটে পড়েন ব্লিয়ার্ড, আর সেই জায়গায় ভাগ্য খুলে যায় জাস্ট ফন্টেইনের। যাঁকে থামানোর কোনো মন্ত্র জানা ছিল না কোনো ডিফেন্ডারের।

ব্রাজিলের টানা দুইফন্টেইন বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মাত্র একটি।

ফন্টেইন সেই জুতা নিয়ে রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আমি যে জুতা জোড়া ধার করেছিলাম, তার ভেতরেই হয়তো কোনো জাদু ছিল! ব্রুই সেই জুতা পরলে হয়তো সে-ই সব রেকর্ড গড়ত।’ আগের বিশ্বকাপে করা হাঙ্গেরির সানডোর কচিশের করা ১১ গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েন ফন্টেইন। যা এখনো অমলিন। মাত্র একটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। ১৯৬০ সালে ভয়ানক এক চোটে তাঁর ক্যারিয়ার থমকে যায়, আরেক বিশ্বকাপ আসার আগেই ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। তবে সর্বোচ্চ গোলের যে রেকর্ড গড়েছিলেন, তা ভাঙতে সময় লেগেছে ৪৪ বছর। ২০০২ বিশ্বকাপে এসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙেন রোনালদো নাজারিও।

ইতালি: বিষাদের রং নীল

Read full story at source