অপরাধ দমনে ঢাকায় বাড়ছে থানা-ফাঁড়ি, নজরদারি, নতুন থানা কোথায়
· Prothom Alo

রাজধানীতে একের পর এক খুন, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগের মধ্যে অপরাধ দমনে পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারির পরিসর বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে তিনটি থানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আরও একটি থানা ও দুটি ফাঁড়ির প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে।
Visit esporist.com for more information.
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরে সাঁড়াশি অভিযানের পাশাপাশি পুরো নগরীকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হ্যালো ডিএমপি অ্যাপ, নাগরিক তথ্যভান্ডার, হোটেল বোর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম ও সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত বদলে যাওয়া ঢাকার জনসংখ্যা, নতুন আবাসন এলাকা, মহানগরের সীমান্তঘেঁষা অপরাধপ্রবণ অঞ্চল এবং পুলিশের বর্তমান জনবল-চাপ বিবেচনায় এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন থানা ও ফাঁড়ি হলে টহল বাড়ানো, তল্লাশিচৌকি বসানো, অপরাধপ্রবণ এলাকায় দ্রুত পুলিশ পাঠানো এবং নাগরিক সেবা দেওয়া সহজ হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই তিন মাসে ঢাকা মহানগরে ৫৭টি হত্যা মামলা হয়েছে। এ ছাড়া দস্যুতার ঘটনায় ৭২টি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৯টি, ডাকাতির ঘটনায় ১১টি, অপহরণের ঘটনায় ৫৩টি, চুরির ঘটনায় ৪৩১টি, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১৮টি এবং ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৩৭৫টি মামলা হয়েছে।
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে খুন, গুলিবর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার কয়েকটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্কও তৈরি হয়।
সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যার পর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় গুলি করে হত্যা করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে। এ হত্যাকাণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে সন্দেহ করছে পুলিশ। গত মাসেই পৃথক ঘটনায় মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী চক্রগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে আরও দুজন খুন হন।
এ ছাড়া কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়ে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই তিন মাসে ঢাকা মহানগরে ৫৭টি হত্যা মামলা হয়েছে। এ ছাড়া দস্যুতার ঘটনায় ৭২টি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৯টি, ডাকাতির ঘটনায় ১১টি, অপহরণের ঘটনায় ৫৩টি, চুরির ঘটনায় ৪৩১টি, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১৮টি এবং ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৩৭৫টি মামলা হয়েছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের অংশ হিসেবে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।৭ দিনে গ্রেপ্তার ৮২১
এই প্রেক্ষাপটে ১ মে থেকে রাজধানীতে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি। ৭ মে পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৮৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপি বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের সাম্প্রতিক তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ, চোর, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিরা রয়েছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার প্রথম আলোকে বলেন, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের অংশ হিসেবে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের মূলোৎপাটন করে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং মহানগরীকে নিরাপদ রাখতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর কি ঢাকার ‘সিটি অব গড’নতুন থানা কোথায় কোথায়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানীতে নতুন তিনটি থানার প্রস্তাবিত নাম রায়েরবাজার, বসুন্ধরা ও দক্ষিণগাঁও। নতুন তিন থানা চালু হলে ডিএমপিতে মোট থানার সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৩। অনেক দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে নতুন থানার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ডিএমপি। দীর্ঘদিন বিষয়টি ঝুলে থাকার পর এখন তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও থানা স্থাপনসংক্রান্ত সচিব কমিটির আগামী সভায় প্রস্তাবটি তোলা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, নতুন থানাগুলো এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর থানার একটি অংশ নিয়ে হবে রায়েরবাজার থানা। খিলক্ষেত, বাড্ডা ও ভাটারা থানার অংশ নিয়ে বসুন্ধরা থানা এবং সবুজবাগ ও খিলগাঁও থানার অংশ নিয়ে দক্ষিণগাঁও থানা গঠনের কথা রয়েছে। তবে বসুন্ধরা থানার নামকরণ নিয়ে কিছুটা দ্বিমত আছে। অনুমোদনের আগে নাম পরিবর্তনের সুযোগও থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।
নতুন প্রতিটি থানার জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১১৯ জন করে জনবল চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে থাকবেন ৩ জন পরিদর্শক, ৪৩ জন উপপরিদর্শক, ৩৫ জন সহকারী উপপরিদর্শক ও ৪৬ জন কনস্টেবল।
ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন থানাগুলো চালু হলে বড় থানা এলাকার চাপ কমবে এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো যাবে।
রায়েরবাজার, বছিলা ও জেনেভা ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের প্রবণতা বেশি বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন।
ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর, বছিলা, জেনেভা ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকা, খিলক্ষেত, বসুন্ধরা, খিলগাঁও, রামপুরা ও সবুজবাগ এলাকায় গত কয়েক বছরে জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে। এসব এলাকায় নতুন নতুন আবাসন প্রকল্প, বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলেছে। বিশেষ করে রায়েরবাজার, বছিলা ও জেনেভা ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের প্রবণতা বেশি বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন।
ডিএমপির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মোহাম্মদপুর, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ভাটারা, সবুজবাগ ও খিলগাঁও—এই ছয় থানা ঢাকা মহানগরের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকার পাশে কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সীমানা। ফলে অপরাধীরা সহজে রাজধানীতে ঢুকে অপরাধ করে আবার বাইরে চলে যেতে পারে। পাশাপাশি এসব থানার পুলিশকে সভা-সমাবেশ, মিছিল, ভিআইপি নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায়ও দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে বিশাল এলাকার অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা কার্যকরভাবে পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওরা চাঁদা তোলে, অন্যরা প্রশ্রয় দেয়আরও থানা-ফাঁড়ির প্রস্তাব
নতুন তিন থানার বাইরে মোহাম্মদপুরের একটি অংশ নিয়ে বছিলা নামে আরও একটি থানা করার প্রস্তাবও তৈরি করছে ডিএমপি। একই সঙ্গে বাড্ডার বেরাইদ ও গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিএমপিতে ৫৭টি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। নতুন দুটি ফাঁড়ি চালু হলে ফাঁড়ির সংখ্যা হবে ৫৯।
ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়াতে বিদ্যমান কিছু ফাঁড়ির অবস্থানও পরিবর্তন করা হচ্ছে। যেমন খিলক্ষেত থানার কাছাকাছি থাকা খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়িটি সরিয়ে পূর্বাচলসংলগ্ন ৩০০ ফুট সড়কের কাছে পুলিশ হাউজিং এলাকায় নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, ফাঁড়িগুলো থানার কাছাকাছি রাখার বদলে অপরাধপ্রবণ ও দ্রুত সম্প্রসারিত এলাকায় নেওয়া হলে টহল ও প্রতিরোধমূলক পুলিশিং কার্যকর হবে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি আরও চার হাজার পুলিশ সদস্য চেয়েছে। বর্তমানে ডিএমপিতে প্রায় ৩৩ হাজার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। ডিএমপির কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর আয়তন, জনসংখ্যা, যানজট, রাজনৈতিক কর্মসূচি, অপরাধের নতুন ধরন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ সামাল দিতে বর্তমান জনবল যথেষ্ট নয়।
পাশাপাশি এসব থানার পুলিশকে সভা-সমাবেশ, মিছিল, ভিআইপি নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায়ও দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে বিশাল এলাকার অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা কার্যকরভাবে পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে জোর
নতুন থানা-ফাঁড়ির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। ডিএমপি সূত্র জানায়, পুরো ঢাকা শহরকে ১১ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাত শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুরে ৭০০ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। গুলশানে গুলশান সোসাইটি নামে বাড়ির মালিকদের সংগঠন ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, গুলশানে বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় সেখানে অপরাধ তুলনামূলকভাবে কম। পুরো ঢাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এলে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং অপরাধ করার সাহসও কমবে। তাঁর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং জোরদার করা এখন অপরাধ দমনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মিরপুরে মিলেমিশে চাঁদাবাজি, তালিকায় নাম যেসব নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তারডিএমপি ইতিমধ্যে নাগরিক তথ্য সংগ্রহের জন্য সফটওয়্যার, হ্যালো ডিএমপি অ্যাপ এবং হোটেল বোর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম চালু করেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, হোটেলে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে জানা গেলে বাইরে থেকে এসে অপরাধ করে কেউ হোটেলে লুকিয়ে থাকতে পারবে না।
এ ছাড়া সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা দিতে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে সাইবার সাপোর্ট সেন্টার চালু করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে অপরাধের ধরন বদলেছে। শুধু থানাভিত্তিক গতানুগতিক পুলিশিং দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন। তাই থানা-ফাঁড়ির সংখ্যা বাড়ানো, অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, তালিকাভিত্তিক অভিযান এবং বাড়তি জনবল—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পূর্বাচলও ডিএমপির আওতায়
পূর্বাচল নতুন শহরকেও ডিএমপির আওতায় আনার বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারি আদেশ জারি হয়েছে। সেখানে ৪টি থানা, ৬টি ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্স চালুর জন্য জনবল চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ডিএমপি। প্রস্তাবটি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ডিএমপি সূত্র জানায়, পূর্বাচলে পুলিশের স্থাপনার জন্য ৩০ একর জমি বরাদ্দ আছে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ পুলিশি কার্যক্রম শুরু করতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার জনবলের প্রয়োজন হবে।
পূর্বাচলে প্লট পাওয়া অনেক মালিক সেখানে বাড়ি নির্মাণ করতে চান। তবে থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশ বক্স চালু না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ আছে। ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি আদেশ হাতে পাওয়ার পর পূর্বাচলে নিয়মিত টহল শুরু হবে। পরে জনবল ও স্থাপনার অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে পূর্ণাঙ্গ পুলিশি কার্যক্রম চালু করা হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে অপরাধের ধরন বদলেছে। শুধু থানাভিত্তিক গতানুগতিক পুলিশিং দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন। তাই থানা-ফাঁড়ির সংখ্যা বাড়ানো, অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, তালিকাভিত্তিক অভিযান এবং বাড়তি জনবল—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে পুলিশের দ্রুত সাড়া, জবাবদিহি ও ধারাবাহিক অভিযানের ওপর।