আর্টিমিস ২ পৃথিবী ছেড়ে যায়নি!
· Prothom Alo

পৃথিবী থেকে চার নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিলেন। ৯ দিন পর ফিরে এলেন নিজ গ্রহে। কিন্তু পৃথিবী তো ঘুরছে সূর্যের চারপাশে। তার মানে, ৯ দিন পর তো এটি আর আগের জায়গায় নেই। তাহলে আর্টিমিস কীভাবে ফিরে এল? ফিরে ঠিক কোথায় এল? পৃথিবীর নতুন অবস্থানে নিজেকে কীভাবে নিয়ে গেল?
যানটি কিন্তু পৃথিবীর নতুন অবস্থানেই ফিরে এসেছে। লুপের মতো করে চাঁদকে ঘুরে এসে নোঙর ফেলেছে পৃথিবীর বুকে।
Visit betsport.cv for more information.
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে চলছে সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে। ঘণ্টায় ১ লাখ কিলোমিটারের বেশি। তার মানে, আর্টিমিস ২ পৃথিবীতে আসতে আসতে পৃথিবী আগের জায়গা থেকে দূরে সরেছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার কিলোমিটার। অথচ পুরো ভ্রমণপথে যানটি নিজে চলেছে প্রায় ১১ লাখ ২৭ হাজার কিলোমিটার পথ। তাহলে পৃথিবীকে ধরার জন্য বাড়তি দূরত্বটা কীভাবে পার হলো?
সত্যি বলতে, আর্টিমিস ২ কখনো পৃথিবী ছেড়ে যায়ইনি। আরও ভালো করে বললে, পৃথিবীর গতি থেকে আলাদা হয়নি। কারণ এটি ছিল পৃথিবীর মহাকর্ষ ক্ষেত্রের মধ্যেই। যেমনিভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা চাঁদ নিজেও পৃথিবীর মহাকর্ষের খোলসে বন্দি। বিমান যেভাবে নিজ গতির সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে ঘুরতে থাকে আকাশেও, আমরাও পৃথিবীর সঙ্গে ঘুরি বলে বাড়তি সে গতি টের পাই না।
আর্টেমিসের কোনো ছবিতে স্পেস জাঙ্ক দেখা যাচ্ছে না কেনপৃথিবী সূর্যের চারদিকে চলছে সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে। তার মানে, আর্টিমিস ২ পৃথিবীতে আসতে আসতে পৃথিবী আগের জায়গা থেকে দূরে সরেছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার কিলোমিটার।
ফলে পৃথিবীকে ছেড়ে যাওয়ার সময় যানটির গতি আসলে শূন্য ছিল না। পৃথিবীর নিজস্ব গতি এর মধ্য ছিলই। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছেড়ে যাওয়ার পরেও এটি সে গতিতে চলছিলই। চাঁদের দিকে যাওয়ার জন্য বাড়তি বেগ জ্বালানির সাহায্যে তৈরি করেছিল। কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে সঙ্গে চলার সেই অন্তর্নিহিত গতি অব্যাহত ছিল। নিউটনের গতির সূত্র বলছে, গতি অব্যাহত রাখার জন্য বাড়তি কোনো বল প্রয়োগ করতে হয় না। গতি থামানোর জন্য বা পরিবর্তন করার জন্য বল প্রয়োজন। ফলে আর্টিমিসের পৃথিবী থেকে পাওয়া গতি অবিরত ছিল।
চাঁদ আগে থেকেই পৃথিবীর সঙ্গে সঙ্গে চলছে। ঘুরছে সূর্যের চারদিকে। বাড়তি গতি হিসেবে ঘুরছে পৃথিবীর চারপাশেও। ফলে চাঁদে যাওয়ার জন্য নভোচারী চাঁদকে তাড়া করে বেড়ায় না। পৃথিবী ও চাঁদের গতি অন্য গ্রহ-উপগ্রহদের ন্যায় অনুমানযোগ্য পথ ধরে চলে। কখন কোথায় থাকবে তা আগে থেকেই জানা।
তাই চাঁদে যাওয়ার জন্য চাঁদকে তাড়া না করে একটি ভবিষ্যৎ গন্তব্য ঠিক করা হয়। নভোযান সেই বিন্দুতে যেতে যেতে চাঁদও সেখানে গিয়ে হাজির হয়। হয়ে যায় দেখা। এভাবে বক্র পথেই চলে নভোযানের ভ্রমণরেখা। চাঁদকে ঘুরে এসে যান আবার পৃথিবীমুখী হয়। আর্টিমিস ২-কে পৃথিবীর উদ্দেশ্য নতুন করে যাত্রা করতে হয়নি। এটি পৃথিবীর গতির তালে তালেই চলছিল। যানটি পৃথিবী ত্যাগ করল, চাঁদে গেল, আবার পৃথিবীতে ফিরে এল। এই পুরো সময়ে সবকিছুই ছিল পৃথিবীর সঙ্গেই।
লেখক: প্রভাষক, পরিসংখ্যান বিভাগ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজসূত্র: নাসা, স্পেস ডট কমছবিতে দেখুন আর্টেমিস ২ মিশনের নভোচারীদের পৃথিবীতে ফেরা