ভোটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, সবকিছু স্পষ্ট, সাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে: জামায়াত আমির
· Prothom Alo

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা বড় গলায় বলেছি, আমরা কোনো দলের বিজয় চাই না। আমার দলের নাম ধরেই বলেছিলাম যে এই দলের বিজয় চাই না। আমরা চাই, ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ওই বিজয় অর্জিত হয়নি।’
সবকিছু এখন স্পষ্ট দিবালোকে এসে গেছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আবার সাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে। বিচার এখন জনতার আদালতে এবং সেই বিচারের রায় জনতার পক্ষেই আসবে ইনশা আল্লাহ।’
Visit chickenroadslot.pro for more information.
আজ সোমবার বিকেলে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর একটি হোটেলে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
ইফতার মাহফিলে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংসদে কত আসন নিয়ে বিরোধী দল হয়েছি বা আমাদেরকে বিরোধী দল কায়দা করে বানানো হয়েছে, এটি আমাদের কাছে খুব বড় বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং শেষ পর্যন্ত যা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি, আমরা কথা দেব, প্রিয় বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করব না ইনশা আল্লাহ। সস্তা কোনো সুযোগ-সুবিধা আমাদেরকে টলাতে করতে পারবে না ইনশা আল্লাহ। জনগণের সুবিধা, অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমাদের অঙ্গীকার।’
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে জামায়াতের আমির বলেন, টানা ৫৪ বছরের যন্ত্রণা সহ্য করার পর যুবসমাজের নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই যুবসমাজকে জামায়াত চিরতরে বুকে ধারণ করে রাখবে। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই জামায়াতের কাজ হবে। যুবসমাজ সব ক্ষেত্রে সুবিচার চায়। তারা স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি, ব্যক্তিপ্রীতি দেখতে চায় না। জামায়াতও তা–ই চায়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আফসোস, আমরা যারা একসঙ্গে সকলেই মজলুম ছিলাম, আজকে তাদের কাউকে কাউকে দেখি তার সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় কাজ করছে। শিক্ষা কি আদৌ হবে না? তাহলে কি ইতিহাসের সেই সব কটাই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ। ইতিহাস বারবার কিন্তু ফিরে আসে, ঘুরে আসে।’
জামায়াতের আমির বলেন, সরকারি দলে যাঁরা আছেন, তাঁরা জামায়াতের শত্রু নন। জামায়াত বিশ্বাস করতে চায়, রাজনীতি কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য হবে না, রাজনীতি হবে মানুষের জন্য।
রাজনীতি থেকে ‘প্রতিহিংসার বিষ’ এবং ‘দুর্নীতির ক্যানসার’ দূর করতে না পারলে গত ৫৫ বছরে জাতির ভাগ্যে দফায় দফায় যা ঘটেছে, সামনে তার চেয়েও খারাপ কিছু ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা একটি স্থায়ী সমাধান চাই। এই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাদ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে ইনশা আল্লাহ। সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলব। যদি সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়, সাধুবাদ জানাব। জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে সরকার কোনো উদ্যোগ নিলে, শুধু সমর্থন নয়, সহযোগিতা করব। আবার জনগণের কোনো অধিকারকে নতুন করে হত্যা করতে গেলে তীব্র প্রতিবাদ জানাব। প্রতিবাদে কাজ হলে আলহামদুলিল্লাহ, না হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমরা ভাগব না, ইনশা আল্লাহ।’
বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানবতার কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আজ বিশ্বের যেসব প্রান্তে অস্থিরতা, যুদ্ধ চলছে, তাতে কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মুসলিম বিশ্ব। যারা মানবতার ওপর জুলুম করবে, জামায়াত তার বিপক্ষে থাকবে। যেখানে মানবতা লঙ্ঘিত হবে, সেখানে জামায়াত মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে।
ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।